আমাদের কথা
মসজিদবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের বিদ্যালয় অংশটি ১৯৬৮ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই এলাকা এবং এর পশ্চাদ্ভূমি একটি অকল্পনীয় রকমের অনুন্নত জায়গা নিয়ে গঠিত। এই এলাকার তিন দিকে সন্ধ্যা নদী এবং পশ্চিম দিকে জলাভূমি বা বিল থাকায় এখানে শিক্ষার কোনো প্রসারই ঘটেনি। ষাটের দশকের একেবারে শেষদিকে এখানে যখন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়, তখন এর ছাত্র সরবরাহকারি একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো। সেই বিদ্যালয় নদীভাঙনের শিকার হয়ে বারকয়েক স্থানান্তরিত হয়ে এখনও টিকে আছে। ঐ সময় ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা ছিলো আনুমানিক সর্বসাকুল্যে পনের কিংবা বিশ জন। পশ্চাদ্ভূমির পূরো ইউনিয়নে তখন মোট দুটো প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো।
আনন্দের বিষয় এই যে আমদের অজান্তেই তখন বাংঙ্গালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটছিলো, এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কথা বেশ কয়েকজন মিলে যখন চিন্তা করেছিলেন, তখন স্রেফ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বেশ কিছু লোক ঐ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে এর বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন।
ব্রিটিশ আমলের শেষের দিকে, আলোচ্য সময়ে প্রায় সবাই তখন দেশ্ত্যাগী হলেও, কয়েক ঘর কায়স্থ হিন্দু এই ‘বিল’ এলাকায় তাদের সন্তানদের অক্ষরজ্ঞান দান করার লক্ষ্যেই স্থাপিত একটি ‘মাইনর’ স্কুল পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন। সেই দোচালা টিনের ঘর থেকে, আজ আমরা অনেক বড় তিন তলা পাকা ভবন করে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির জন্যো সরকারের স্বীকৃতি পেয়েছি।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ব্রিটিশ আমলের কায়স্থদের রেখে যাওয়া দোচালা টিনের ঘরকে মধ্যে মুলি বাঁশের বেড়া দিয়ে তিনটি কক্ষ বানিয়ে প্রথমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো শুরু করলেও, বছর দুয়েকের পর তা’ আবার ছাত্র এবং শিক্ষক ঊভয় শ্রেণির অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আবার আমরা শুরু করি, ১৯৬৮ সনে। ১৯৬৯ সনে ‘বিশেষ অনুমতিতে” মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি পাওয়া গেলেও, মহান মুক্তিযুদ্ধের কারণে ১৯৭০ এর ঐ পরীক্ষা অনউষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের পরে----১৯৭২ সনে। তখন ওই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্কুলের সংগে আমরা বাঁশ ও গোলপাতা দিয়ে আরো দু’তিনটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে পাঠদান চালাতে থাকি। স্কুলটির প্রিতিষ্ঠাতা তার সংক্ষিপ্ত কলেজ জীবনের শেষ থেকে শুরু করে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনব্যাপি স্কুলের সাথে থেকে একে অন্যান্য বিদ্যোৎসাহি লোকদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি, এ, (অনার্স) পরীক্ষা দেয়ার পর তিনি এই স্কুলের স্বল্পকালিন প্রধান শিক্ষক হয়ে, তখনকার যশোর বোর্ডে গিয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে স্কুলের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায় করেন। তারপর অনেক চড়াই-উৎরাই করে এবার উচ্চ মাধ্যমিকের স্বীকৃতি মিললো। দেশের অন্যান্য খুব কম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে দুর্ভাগ্য হয়না, এই গরীব এলাকার গরীব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেই দুর্ভাগ্য হয়েছে। ভূমি-গঠন্সহ নানাবিধ কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো সহজেই ক্ষয়সাধনের ( river erosion) শিকার হয়, সে’ কথা প্রতিবেশ সচেতন সকলেই জানেন। কিন্তু তিন দিকে নদীবেষ্টিত ও পদ্মার তীব্র স্রোত বয়ে নিয়ে আসা সন্ধ্যা নদীর একটি শাখা সরাসরি আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত হানায়, আমরা ইতোমধ্যেই চার-চারবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। এটি একটি বিশেষ দুর্ভাগ্য। এ’ব্যাপারে সরকারি সহায়তা কিছু থাকার বন্দোবস্ত থাকলেও, তা’ একেবারেই অপ্রতুল। তবুও আমরা এখনও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছি, খুব জোর দিয়ে বলতে পারি, টাকার জোরে নয়, স্বার্থহীন, সহৃদয় কিছু ব্যক্তিদের সহায়তায় এবং অবশ্যই সরকারের বদান্যতায় এবার আমরা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্বীকৃতি এবং ন্যায়ত এম,পি, ও পাবো।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এক কথায় গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসারণ আমাদের মূল লক্ষ্য । সেই উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃংক্ষলা প্রতিষ্ঠা ও তা’ রক্ষা করা এবং নিয়মিত পাঠদান আমাদের লক্ষ্য । সেজন্য প্রয়োজন মেধাসম্পন্ন, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের । তার অভাব এখন খুবই বেশি। সরকারি প্রতিষ্ঠানই এখন শিক্ষকদের নিয়োগ দান করেন। আমাদের আশা, আমাদের এই লক্ষ্য পুরণের দিকে নজর দিয়ে সরকার মানসম্মত শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে দিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করবেন।